শিলিগুড়িতে চেনা জল থৈ থৈ চিত্র বদলে সশরীরে নিকাশি নিষ্কাষনের কাজ তদারকিতে হাজির রঞ্জন সরকার
দি নিউজ লায়ন; বর্ষা নামতেই শিলিগুড়ি শহরের চেনা জল থৈ থৈ চিত্র বদলে সশরীরে নিকাশি নিষ্কাষনের কাজ তদারকিতে হাজির প্রশাসক বোর্ডের সদস্য রঞ্জন সরকার। শিলিগুড়ি পুর ওয়ার্ড গুলিতে ফি বর্ষায় পরিচিত জলমগ্ন পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে এবারে আগাম শহরের সম্পূর্ণ নিকাশি নিষ্কাশন ব্যবস্থার গলদ সারিয়ে পরিকাঠামো উন্নয়নে জোড় পরখ করে হয়েছে। শুক্রবার শিলিগুড়ি ৩১নম্বর ওয়ার্ডের অশোকনগরে যান শিলিগুড়ি পুর নিগমের প্রশাসক বোর্ডের সদস্য রঞ্জন সরকার সেখানে সরেজমিনে নিকাশি নিষ্কাশনের কাজ খতিয়ে দেখেন।
বর্ষাকালে এই অঞ্চলে স্বল্প বৃষ্টিতেই জলবন্দী পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে এদিন রঞ্জন বাবুর উপস্থিতিতে এলাকার মানুষেরা আশস্ত হন। শহরবাসীকে জলযন্ত্রণার হাত থেকে রেহাই দিতে ইতিমধ্যেই শহরের বাইরে থাকা হাই ড্রেনগুলির নিষ্কাষন সুচারু করা হয়েছে। শিলিগুড়ি পুরনিগমের আবর্জনা ও নিকাশি নিষ্কাষন বিভাগের দায়িত্বে থাকা পুর প্রশাসক বোর্ডের সদস্য রঞ্জন সরকার নিজে পুর ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে নিয়ে জল জমায়েতের সমস্যা থাকা বিভিন্ন ওয়ার্ডগুলি ঘুরে কোথাও গলদ রয়েছে তা খতিয়ে দেখছেন।
তিনি বলেন প্রতি বর্ষায় যে জলযন্ত্রণার সম্মুখীন হতে হয় নাগরিকদের তা থেকে মুক্তি দিতে ইতিমধ্যেই পুরনিগমের তরফে একটি বড় প্ল্যান নেওয়া হয়েছে। দুটো পাম্পিং স্টেশন কেনা হয়েছে। তিনি জানান পূর্বের বাম বোর্ডের দীর্ঘদিনের এই নাগরিক সমস্যা সমাধানে কোনো পরিকল্পনাই ছিলনা। এদিকে বিবেচক মহলের কটাক্ষ আবর্জনা স্তূপ, অবৈধনির্মাণের পাশাপাশি শিলিগুড়ি পুর এলাকার ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে নিকাশি নিষ্কাষনের বেহাল দশা পূর্ব বাম বোর্ডের ক্ষমতার মুকুটে সংযুক্ত অতিরিক্ত পালক।
যা বিগত ছয় বছরের ফি বর্ষায় একইভাবে নিজ স্থানে অনড় হয়ে শহরবাসীর চূড়ান্ত ভোগান্তির কারন হয়ে উঠেছে। তবে তৃনমূল পুর বোর্ডের দায়িত্ব পেয়েই পুরোনো জীর্ণ দশা কাটিয়ে তুলতে শহরের নাগরিক সমস্যার সমাধানে কিঞ্চিৎ ফাঁক রাখতে নারাজ প্রশাসক বোর্ডের সদস্য রঞ্জন সরকার। বিরোধী দলনেতা হিসেবে বোর্ড বৈঠকে নাগরিক সমস্যা নিয়ে বারংবার বামেদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন তিনি। নাগরিক সমস্যার কথা আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেও বাম বোর্ডের স্বদিচ্ছার অভাবে কাজ হয়নি। তাই এবারে কাজের সুযোগ পেয়ে শহরের ভোল বদলে দিতে চায় তৃনমূল।
রঞ্জন বাবু জানান পূর্ব বোর্ডের কোনো পরিকল্পনা না থাকায় এই অবস্থা। এবারে পুরবোর্ড দায়িত্ব নিয়ে বর্ষার আগে থেকেই ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে এলাকা ঘুরে দেখি ঠিক কোন কোন এলাকায় কি কারনে স্বল্প বৃষ্টিপাতেই জলজমায়েত হয়ে পড়ছে। পরিকল্পনা নিয়ে প্রথমে শহর থেকে বাইরে যাওয়া নিকাশি হাইড্রেনগুলির নিষ্কাষন ব্যবস্থা ঠিক করা হয়েছে। এরপর যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শহরের ভেতরে সমস্ত নিকাশি নালা নিষ্কাষন সুচারু করা হচ্ছে। যাতে বর্ষার সময় জলমগ্ন স্তিতি তৈরি না হয়। প্রয়োজনে একটি ভ্রাম্যমাণ পাম্পিং স্টেশনও থাকছে যাতে কোথায় জল জমায়ের হলে তা নিমেষে অপসারণ করা যায়।

Post a Comment